বুধবার

,

৫ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৫

শরণার্থীদের হাতে হাতকড়া, আমেরিকার ওপর ক্ষুব্ধ ব্রাজিল

এটিভি ইউএসএ নিউজ ডেস্ক
ছবি: সংগৃহীত

আমেরিকার নতুন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতা গ্রহণের আগে থেকেই বলে আসছিলেন অবৈধ অভিবাসীকে দেশছাড়া করবেন। তখন প্রেসিডেন্ট প্রার্থীর এ নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি কেউ আমলে নেয়নি। কিন্তু বিষয়টি এখন দৃশ্যমান, শরণার্থীদের হাতকড়া পরিয়ে ব্রাজিলে পাঠাল আমেরিকা। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে সরব হয়েছে ব্রাজিলের প্রশাসন। শরণার্থীদের সম্মান নষ্ট করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে দেশটি।

শনিবার ব্রাজিলের শরণার্থী বোঝাই একটি বিমান আমেরিকা থেকে রওনা দেয়। বিমানটিতে ৮৮ জন শরণার্থী, ১৬ জন আমেরিকান নিরাপত্তাকর্মী এবং আটজন বিমানকর্মী ছিলেন।

অভিযোগ উঠেছে, বিমানে সমস্ত শরণার্থীর হাতে হাতকড়া পরানো ছিল। বিমানটির নামার কথা ছিল বেলো হরাইজনতে। কিন্তু যান্ত্রিক গোলযোগের জন্য বিমানটি নামে মিনাস গেরাইসে। সেখানেই ব্রাজিল প্রশাসনের চোখে পড়ে, শরণার্থীদের হাতে হাতকড়া পরানো।

বিষয়টি নিয়ে সরব হন ব্রাজিলের বিচার বিষয়ক মন্ত্রী রিকার্ডো লেওয়ানডস্কি। ঘটনার কথা তিনি জানিয়েছেন দেশের প্রেসিডেন্ট লুলা দা সিলভাকে। এরপর প্রেসিডেন্টের হস্তক্ষেপে ওই বিমান থেকে সমস্ত শরণার্থীদের নামিয়ে দেশের বিমান বাহিনীর বিমানে সম্মানজনকভাবে শরণার্থীদের নিজ নিজ রাজ্যে পাঠানো হয়।

ক্ষমতায় এসেই প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দেশ থেকে অবৈধ অনুপ্রবেশকারী এবং শরণার্থীদের চিহ্নিত করতে শুরু করেছেন। যাদের কাছে কাগজ নেই তাদের চিহ্নিত করে আটক করা হচ্ছে। বিমানে তুলে তাদের দেশের ফেরানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

যদিও ট্রাম্প প্রশাসনের বক্তব্য, ২০১৭ সালের আইন মেনে এই ডিপোর্টেশনের কাজ করা হচ্ছে। এর সঙ্গে ট্রাম্পের ক্ষমতায় আসার কোনো যোগ নেই।

ব্রাজিলের সঙ্গে ২০১৭ সালে আমেরিকার একটি দ্বিপাক্ষিক চুক্তি হয়েছিল বলে দাবি করা হয়েছে। এর আগেও একটি বিমানে ব্রাজিলের শরণার্থীদের ফেরত পাঠানো হয়েছিল বলে দাবি করা হয়েছে। তবে এবার যেভাবে তাদের হাতে হাতকড়া পরানো হয়েছে, তা নিয়ে রীতিমতো সোচ্চার ব্রাজিল। ব্রাজিলের বিরোধী রাজনৈতিক শিবিরও এই ঘটনার কড়া সমালোচনা করেছে।

তাদের বক্তব্য, শরণার্থীদের সঙ্গে কখনোই অপরাধীদের মতো ব্যবহার করা যায় না। আমেরিকার প্রশাসনের এই বিষয়টি মাথায় রাখা উচিত।