ঢাকার গণপরিবহনে নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে চালু হয়েছে ‘কিউআর কোড হেল্প’ অ্যাপ। এ অ্যাপের মাধ্যমে যৌন হয়রানিতে জড়িতদের বিরুদ্ধে তৎক্ষণাৎ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তা চাইতে পারবেন নারীরা।
ব্রডকাস্ট জার্নালিস্ট সেন্টার (বিজেসি) ও সুইচ বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন যৌথভাবে পরিষেবাটি চালু করেছে। অ্যাপটির পুরো নাম হ্যারাসমেন্ট এলিমিনেশন লিটারেসি প্রোগ্রাম (হেল্প)।
শনিবার রাজধানীর কাজী নজরুল ইসলাম অ্যাভিনিউতে ডেইলি স্টার ভবনে অ্যাপটির উদ্বোধন করা হয়। বিজেসির চেয়ারম্যান রেজোয়ানুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার শেখ সাজ্জাত আলী।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার শেখ সাজ্জাত আলী বলেন, নারী নিপীড়নের ঘটনায় অনেক ক্ষেত্রেই ভুক্তভোগীরা তা প্রকাশ করতে চান না। নতুন চালু হওয়া পরিষেবাটি খুবই সুন্দর উদ্যোগ। এখন থেকে এ অ্যাপের মাধ্যমে পাওয়া অভিযোগগুলোকে এফআইআর হিসেবে গ্রহণ করা হবে। পুলিশ প্রয়োজনে বাদী হয়ে মামলা করবে এবং তদন্ত শুরু করবে। এ অ্যাপকে কার্যকর করতে প্রয়োজনে সহযোগিতা করবে ডিএমপি।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মহিলা পরিষদের সভাপতি ফওজিয়া মোসলেম। বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘সাম্প্রতিক নারী নির্যাতনের যে খবর আসছে, বাস্তবচিত্র আরও খারাপ। একজন নারী ধর্ষণের শিকার হলে তিনি একা নন, পুরো সমাজ-রাষ্ট্রও ধর্ষিত হয়। সে জন্য এটি প্রতিরোধে আমাদের সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।’
ফওজিয়া মোসলেম বলেন, নারীর প্রতি সহিংসতা রোধে কমিউনিটি পর্যায় থেকে চাহিদা আসতে হবে।
সভাপতির বক্তব্যে বিজেসির চেয়ারম্যান রেজোয়ানুল হক নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে বিজেসি ভবিষ্যতেও কাজ করবে বলে জানিয়েছেন।
পাইলট প্রকল্প হিসেবে শুরুতে এই সেবা ঢাকার বছিলা থেকে সায়েদাবাদ রুটে বাস্তবায়ন করা হবে। যদিও সীমিত আকারে সেবাটি দেশের যেকোনো প্রান্ত থেকে নিতে পারবেন নারীরা।
এছাড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্বেচ্ছাসেবক দল গঠন করা হবে, যারা ইমার্জেন্সি সেবার ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখবেন। একে কার্যকর করতে পরিবহন মালিক সমিতির সঙ্গেও আলোচনা করা হবে।
অ্যাপে রিপোর্ট করলে তা ভলান্টিয়ারদের কাছে তথ্য পৌঁছে যাবে। ভুক্তভোগী কাছের থানার ডিউটি অফিসারের কাছে সরাসরি কল করতে পারবেন।
এছাড়া জাতীয় জরুরিসেবা ৯৯৯ এর সঙ্গে সংযুক্ত থাকবে অ্যাপটি।