শুক্রবার

,

৪ঠা এপ্রিল, ২০২৫

মায়ানমার ও থাইল্যান্ডে ভূমিকম্পে অন্তত ১৪৪ জনের মৃত্যু

এটিভি ইউএসএ নিউজ ডেস্ক
ছবি: সংগৃহীত

শক্তিশালী ভূমিকম্পে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে প্রতিবেশী দেশ মায়ানমার ও থাইল্যান্ড। শুক্রবার দুপুরে ৭.৭ মাত্রার ভূমিকম্প ও ৬.৪ মাত্রার পরাঘাতে মায়ানমারে অন্তত ১৪৪ জন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে ৭৩২ জন। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত থাইল্যান্ডে আটজন নিহত হয়েছে। এখনো উদ্ধার কার্যক্রম চলছে।

এ ছাড়া দেশটিতে ভবন ধসে ৮১ শ্রমিক আটকা পড়েছেন। দুই দেশেই বেশ কয়েকটি বহুতল ভবন ও সেতু ভেঙে পড়েছে। ভয়াবহ ভূমিকম্পের পর থাইল্যান্ড ও মায়ানমারে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে। বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানেও ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে।

আমেরিকার ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানায়, শুক্রবার স্থানীয় সময় দুপুর ১২টা ৫০ মিনিটে ৭.৭ মাত্রার একটি ভূমিকম্প হয়। এটির উৎপত্তিস্থল ছিল মায়ানমারের মান্দালয়ের ১৭.২ কিলোমিটার দূরে, ভূপৃষ্ঠের ১০ কিলোমিটার গভীরে। এর ১২ মিনিট পর ৬.৪ মাত্রার আরেকটি পরাঘাত হানে।

শক্তিশালী ভূমিকম্পের আঘাতে শুক্রবার থাইল্যান্ডের ব্যাংককে নির্মাণাধীন ৩০ তলা ভবন ধসে অন্তত তিনজন শ্রমিক নিহত হয়েছেন।

থাই উপ-প্রধানমন্ত্রী ফুমথাম ওয়েচায়াচাই-এর বরাতে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানায়।

ফুমথাম ওয়েচায়াচাই বলেন, ‘মায়ানমারে ৭ দশমিক ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পের প্রভাবে ব্যাংককে ধসে পড়া ভবনে ৮১ জন আটকা পড়েছিলেন।’

জানা গেছে, মায়ানমার ও থাইল্যান্ড ছাড়িয়ে চীনের ইউনান প্রদেশ, ভারতের কলকাতা, মণিপুরের ইম্ফল, মেঘালয়ের পূর্ব গারো পাহাড় এবং ভিয়েতনামেও ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে।

মায়ানমারের রাজধানী নেপিডোতে ভূমিকম্পের শক্তিশালী কম্পনে সড়কগুলো ফেটে গেছে এবং ভবনগুলোর ছাদের অংশ ভেঙে পড়েছে।

মায়ানমার ফায়ার সার্ভিস বিভাগের এক কর্মকর্তা বলেছেন, ‘আমরা অনুসন্ধান শুরু করেছি এবং ইয়াঙ্গুনে হতাহত ও ক্ষয়ক্ষতির খোঁজ নিতে ঘুরে দেখছি।’ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত ছবিতে মায়ানমারের মান্দালয়ের ভেঙে পড়া ভবনের পাশাপাশি রাস্তায় ধ্বংসাবশেষ পড়ে থাকতে দেখা গেছে। শহরটি মায়ানমারের বৌদ্ধ ঐতিহ্যের কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। ভিডিও ফুটেজে ভূমিকম্পের সময় লোকজনকে মান্দালয় বিমানবন্দরে চিত্কার করতে এবং রানওয়ের মাটিতে বসে থাকতে দেখা যায়। পেছনে একটি জেট বিমান দাঁড়িয়ে ছিল। সে সময় তাদের বলতে শোনা যায়, ‘বসে পড়ো! দৌড়াবে না!’ শহরের এক বাসিন্দা বলেন, ‘সব কিছু কাঁপতে শুরু করতেই আমরা দৌড়ে বাড়ির বাইরে বের হয়ে যাই। আমি নিজ চোখে একটি পাঁচতলা ভবন ধসে পড়তে দেখেছি। আমার শহরের সবাই রাস্তায় বেরিয়ে এসেছে, কেউ-ই ভবনের ভেতরে ফেরার সাহস পাচ্ছে না।’ আরেক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, শহরের একটি মসজিদ মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

মায়ানমারের প্রতিবেশী দেশ থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে শক্তিশালী কম্পনে আতঙ্কিত বাসিন্দারা উচ্চ ভবন ছেড়ে রাস্তায় নেমে আসে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, ভূমিকম্পের তীব্রতায় সুইমিংপুলের পানি উপচে পড়তে দেখা গেছে। চিয়াং মাই শহরের বাসিন্দা দুয়াংজাই বলেন, ‘আমি শব্দ শুনে ঘুম থেকে উঠি, তখনই যতটা দ্রুত সম্ভব পাজামা পরেই দৌড়ে বাইরে বেরিয়ে যাই।’

ব্যাংককে কিছু মেট্রো ও লাইট রেল সেবা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী পেতংতার্ন সিনাওয়াত্রা দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন। ভূমিকম্পের ফলে মোবাইল নেটওয়ার্কেও সমস্যা দেখা দিয়েছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত ছবিতে ভবন ও সড়কের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি দেখা গেছে।