মায়ানমারে আঘাত হানা ৭.৭ মাত্রার ভয়াবহ ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা ১০ হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে আমেরিকার ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএসের এক মডেলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। পেজার নামের এই স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থাপনা ভূমিকম্পে হতাহতের সংখ্যা ও অর্থনৈতিক ক্ষয়ক্ষতি সম্পর্কে অনুমান করে।
এ অনুমানের জন্য কম্পিউটারভিত্তিক এই মডেল যেসব তথ্য-উপাত্তকে বিবেচনায় নেয়, তার মধ্যে কম্পনের তীব্রতা এবং ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার জনসংখ্যাও আছে।
বিবিসি জানিয়েছে, এই পেজার ভূমিধস, ভূমিকম্পজনিত মাটির তরলীকরণ ও সুনামির মতো ভূমিকম্প-পরবর্তী ক্ষয়ক্ষতিকে বিবেচনায় নেয় না।
আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানিয়েছে, এই ভূমিকম্পে ক্ষয়ক্ষতির পরিপ্রেক্ষিতে জরুরি ভিত্তিতে ওষুধ, ত্রাণসামগ্রী উদ্ধার এবং চিকিৎসা সহায়তা প্রদানের জন্য বিশেষ বিমানে রবিবার মায়ানমারে যাচ্ছে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর উদ্ধারকারী দল।
এদিকে শনিবার সরকারি কর্তৃপক্ষ বলেছে, ভূমিকম্পে নিহত ব্যক্তির সংখ্যা বেড়ে হয়েছে এক হাজার দুজন। আহত হয়েছেন দুই হাজার ৩৭৬ জন। এর আগে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া বক্তব্যে দেশটিতে অন্তত ১১৪ জন নিহত ও ৭৩০ জন আহত হওয়ার তথ্য জানিয়েছিলেন জান্তাপ্রধান।
মায়ানমারের জান্তা সরকারের প্রধান সিনিয়র জেনারেল মিন অং হ্লাইং বলেছেন, ‘হতাহতের সংখ্যা বাড়তে পারে।’
বিবিসির প্রতিবেদকরা জানিয়েছেন, ৭.৭ মাত্রার ভূমিকম্পের পর মান্দালয়ে শনিবার সকাল পর্যন্ত একাধিক মৃদু কম্পন অনুভূত হয়েছে। আতঙ্কে শহরটির অনেক বাসিন্দাই খোলা আকাশের নিচে রাত কাটিয়েছে। মায়ানমারের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর মান্দালয়ে প্রায় ১৫ লাখ বাসিন্দার বাস।
শনিবার সকাল পর্যন্ত মায়ানমারের বৃহত্তম দুই শহর ইয়াঙ্গুন ও মান্দালয়ে বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেট সেবা ফেরেনি। মান্দালয়ের এক বাসিন্দা বলেছেন, ‘বিদ্যুৎ ছাড়া আমরা আমাদের ফোনে চার্জ দিতে পারছি না। তাই দূরে থাকা পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করা যাচ্ছে না। বিদ্যুৎ না থাকায় ইন্টারনেটও ব্যবহার করতে পারছি না আমরা।’ বিদ্যুৎ না থাকায় রাতে উদ্ধারকাজেও বিঘ্ন ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।