শুক্রবার

,

৪ঠা এপ্রিল, ২০২৫

শুল্কের ধাক্কায় পাল্টে যাচ্ছে অর্থনীতির গতিপ্রকৃতি

নিজস্ব প্রতিবেদক
ছবি: সংগৃহীত

অবশেষে অনেক জল্পনা-কল্পনার পর আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্ক আরোপের জেরে বিশ্ববাজারে আমেরিকান ডলারের দরপতন ঘটেছে। বিপরীতে বৃদ্ধি পেয়েছে ইউরোর মূল্য। বিনিয়োগকারীরা ইয়েন ও সুইস ফ্রাংকের মতো নিরাপদ আশ্রয়ের দিকে ঝুঁকতে শুরু করেছেন। বার্তা সংস্থা রয়টার্স এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, বহুল প্রতীক্ষিত ট্রাম্পের শুল্ক ঘোষণার পর বৃহস্পতিবার বাজারে ধাক্কা লেগেছে।

এছাড়া বিশ্বব্যাপী শেয়ারবাজারে দরপতন ঘটেছে এবং বিনিয়োগকারীরা বন্ডের পাশাপাশি স্বর্ণে বিনিয়োগ শুরু করেছেন।
নতুন শুল্ক আরোপের ফলে ট্রাম্পের বাণিজ্যযুদ্ধ তীব্র হয়ে উঠেছে। বাজারগুলোতে উত্তেজনা বিরাজ করছে। কারণ আশঙ্কা বাড়ছে, একটি পূর্ণাঙ্গ বাণিজ্যযুদ্ধ তীব্র বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা এবং জ্বালানি মূল্যস্ফীতির কারণ হতে পারে।

বৃহস্পতিবার ডলার সূচক ১.৬ শতাংশ কমে ১০২.০৩-এ দাঁড়িয়েছে, যা অক্টোবরের শুরুর পর থেকে সর্বনিম্ন। তবে ইউরো সূচক ১.৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা ছয় মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। এ ছাড়া আমেরিকান ডলারের বিপরীতে অস্ট্রেলিয়ান ডলারের দর ০.৫৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, নিউজিল্যান্ড ডলার ০.৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, জাপানের ইয়েন তিন সপ্তাহে সর্বোচ্চে শক্তিশালী হয়ে শেষ পর্যন্ত প্রতি ডলারে ১.৭ শতাংশ বেড়েছে এবং সুইস ফ্রাংক পাঁচ মাসের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী স্তরে গিয়ে এক ডলারের বিপরীতে .৮৬৫৫ হয়েছে।

ক্যাপিটাল ডটকমের সিনিয়র বাজার বিশ্লেষক ড্যানিয়েলা সাবিন হ্যাথর্ন জানান, ট্রাম্প ঘোষিত ‘মুক্তি দিবসের’ সবচেয়ে বড় ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে আমেরিকান ডলার।

তিনি বলেন, ‘মূল কথা হলো, অনিশ্চয়তা এখন বেশি—এমনকি কয়েক দিনের আলোচনার পর এই নতুন শুল্কগুলোর কিছু বাতিল বা সংশোধিত হতে পারে, বিষয়টি বিবেচনায় থাকার পরও। মোটামুটি অনুমান অনুসারে, অর্থনৈতিক প্রভাব ১৯৩০-এর দশকের স্মুট-হাওলি শুল্কের চেয়েও বেশি হতে পারে।’

ড্যানিয়েলা সাবিন হ্যাথর্ন জানান, ট্রাম্পের পাল্টা শুল্ক আরোপ কেবল বাণিজ্যের ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা নয়, এর মাধ্যমে আমেরিকা সম্পূর্ণরূপে স্বনির্ভর হওয়ার চেষ্টা করছে বলে মনে হচ্ছে। আমেরিকা বিশ্ব বাণিজ্যের ওপর নির্ভর না করে অভ্যন্তরীণভাবে সব কিছু উৎপাদন এবং ব্যবহার করার চেষ্টা করছে। এই স্তরের শুল্কে, আমেরিকা মূলত অর্থনৈতিকভাবে নিজেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলবে, অন্যান্য দেশের সঙ্গে বেশির ভাগ সম্পর্ক ছিন্ন করবে।