ভারতের মুসলিম ও বিরোধী দলগুলোর প্রবল আপত্তির মুখে পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ রাজ্যসভায় পাস হয়েছে ওয়াক্ফ বিল। দীর্ঘ বিতর্ক শেষে বৃহস্পতিবার গভীর রাতে ১২৮-৯৫ ভোটে বিলটি পাস হয়। ভারতের মুসলিম নেতা ও বিরোধী দলগুলো বলছে, এই বিল ‘অসাংবিধানিক’ এবং এটি ভারতের মুসলিম সম্প্রদায়ের অধিকার লঙ্ঘন করে। দেশটির নরেন্দ্র মোদির সরকারের দাবি, এই বিলের লক্ষ্য ওয়াক্ফ ব্যবস্থাপনাকে আরো স্বচ্ছ করা।
এদিকে ওয়াক্ফ বিল পাসের বিরুদ্ধে শুক্রবার কলকাতা, চেন্নাই, আহমেদাবাদে ব্যাপক বিক্ষোভ মিছিল করেছে মুসলিম সম্প্রদায়।
এবার রাজ্যসভায় এটি পাস হয়ে যাওয়ায় বিলটির আইনে পরিণত হওয়া শুধু এখন সময়ের অপেক্ষা।
বর্তমান ওয়াক্ফ বিলের আইন অনুযায়ী, ওয়াক্ফ বোর্ডের দখল করা সম্পত্তি বা জমিতে কোনো রকম সরকারি পর্যালোচনা বা রিভিউ করা যায় না। পর্যালোচনা ছাড়াই ওয়াক্ফ বোর্ড জমি দখল করতে পারে।
কোনো সম্পত্তি নিয়ে ব্যক্তিগত মালিকানা এবং ওয়াক্ফ বোর্ডের আইনি বিবাদ চললেও তাতে হস্তক্ষেপ করতে পারে না সরকার। নতুন বিলে তার বন্দোবস্ত রয়েছে। আরো একাধিক ক্ষেত্রে ওয়াক্ফ বোর্ডের একচ্ছত্র অধিকার খর্ব করা হতে পারে। এর পাশাপাশি আপত্তি উঠেছে নতুন বিলে ওয়াক্ফ বোর্ডে অমুসলিম সদস্যের অন্তর্ভুক্তির বন্দোবস্ত নিয়েও।
এসব প্রস্তাবের অনেকগুলোরই বিরোধিতা করছে বিভিন্ন মুসলিম সংগঠন। তাদের ভাষ্য, ওয়াক্ফ বোর্ডে অমুসলিমদের অন্তর্ভুক্তি একেবারেই বেমানান। কারণ অমুসলিম সদস্যরা মুসলমানদের রীতিনীতির ব্যাপারে খুব বেশি জানবেন না এটাই স্বাভাবিক।
এদিকে ওয়াক্ফ বিলটিকে সুপ্রিম কোর্টে চ্যালেঞ্জ করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তামিলনাড়ু রাজ্যের দল ডিএমকে প্রধান এম কে স্ট্যালিন। অন্যদিকে সুপ্রিম কোর্ট বিলটিকে বাতিল করে দেবেন বলে কংগ্রেস নেতা অভিষেক মনু সিংভি আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।
ওয়াক্ফ বিলের পক্ষে ভোট দিয়েছে বিহারের নীতিশ কুমারের দল জেডিইউ। দলের এই অবস্থান মেনে নিতে না পেরে সরে দাঁড়ালেন দুই মুসলিম শীর্ষ নেতা। জেডিইউ প্রধান নীতিশ কুমারকে চিঠি লিখে তাঁরা জানিয়েছেন, ওয়াক্ফ বিল মুসলিমবিরোধী। সেই বিলকে সমর্থন করে ধর্মনিরপেক্ষতার আদর্শ থেকে সরে গেছে জেডিইউ। তাই হতাশ হয়ে দল ছাড়ছেন তাঁরা।
এদিকে ওয়াক্ফ সংশোধনী বিল পাসের ঘটনাকে ‘এক অভূতপূর্ব মুহূর্ত’ বলে বর্ণনা করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ওয়াক্ফ বিল নিয়ে এক বার্তায় মোদি বলেন, পার্লামেন্টের দুই কক্ষে ওয়াক্ফ সংশোধনী বিল পাস হওয়ার ঘটনা আর্থসামাজিক ন্যায়বিচার, স্বচ্ছতা, সামগ্রিক উন্নয়নের লক্ষ্যে এক অভূতপূর্ব মুহূর্ত। তিনি বলেন, এত দিন যাঁরা প্রান্তিক এবং বঞ্চিত ছিলেন, ওয়াক্ফসংক্রান্ত নতুন আইন তাঁদের সাহায্য করবে।
সূত্র : আনন্দবাজার, বিবিসি, সংবাদ প্রতিদিন